বিবাহ বলবৎ থাকাকালীন সময়ে স্ত্রী যতক্ষণ স্বামীর প্রতি অনুগত থাকে এবং তার সকল যুক্তিসঙ্গত আদেশসমূহ মেনে চলে ততক্ষণ পর্যন্ত স্বামী স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে বাধ্য। তালাকের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ হলে ইদ্দতকালীন সময়ের জন্য বা যেক্ষেত্রে স্ত্রী গর্ভবর্তী থাকে সেক্ষেত্রে সন্তান জন্মদান পর্যন্ত বা এই দুই-এর মধ্যে যেটা পরে ঘটে। ইদ্দত মেয়াদ শুরু হয় তালাক ঘোষণার তারিখ হতে এবং স্ত্রীর ভরণপোষণের অধিকার ৩ মাস পর্যন্ত থাকে। তবে, স্বামীর মৃত্যুর মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ হলে স্ত্রী ভরণপোষণের অধিকার হারাবে।
এখন প্রশ্ন হলো একজন স্ত্রী কি ইদ্দতকালীন সময়ে (বিবাহ বিচ্ছেদের ৩ মাস পরও) পরেও কি ভবিষ্যৎ কোন সময়ের জন্য কি ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী হতে পারে। যেক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রীকে স্বেচ্ছাচারীভাবে তালাক প্রদান করে অর্থাৎ ক্ষেত্রে স্ত্রীর কোন দোষ না থাকার পরও তাকে স্বামী তালাক প্রদান করে সেক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রীকে ক্ষতিপূরণমূলক অর্থ বা সান্ত্বনামূলক অর্থ বা বিচ্ছেদের উপহার দিতে বাধ্য থাকে। ইসলামী আইনী ভাষায় এটাকে মাতা’আ বলা হয়।
তবে, প্রত্যেক তালাকপ্রাপ্ত নারী মাতা’আ-র অধিকারী না বরং শর্তপূরণ স্বাপেক্ষে উপযুক্ত ক্ষেত্রে ইদ্দতকালীন ভরণপোষণের অতিরিক্ত হিসাবে মাতা’আ বা সান্ত্বনামূলক অর্থ পাওয়ার অধিকারী হতে পারে। মাতা’আ-র পরিমাণ কত হবে সেটা আইন দ্বারা বা বিচারিক নজিরের মাধ্যমে মাতা’আর- উপযুক্ত পরিমাণ নির্ধারণ করার নির্দেশিকা করা যেতে পারে। তবে, কোন স্বামী যদি তার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে তার বাকি জীবনের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদান্তে ভরণপোষণ দিতে চায়, উহা আইনে নিষিদ্ধ না।
মুসলিম পুরুষ তাদের প্রাক্তন স্ত্রীর সাথে ন্যায্যভাবে সম্পত্তিতে হিস্যা দিতে আগ্রহী না। এমনকি স্বামী স্ত্রীকে পরিত্যাগ করলে যেমাত্র তার পিতা-মাতার বাড়িতে বসবাস করতে যায়, সেক্ষেত্রে দেখা যায় যে, স্বামী স্ত্রীর ভরণপোষণ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। সেহেতু আধুনিক রাষ্ট্র তালাকপ্রাপ্ত নারী এবং তাদের সন্তানদের দায়িত্ব নিবে । ইসলামী আইন অনুসারে, একজন সমাজের সদস্য যে নিজের ভরণপোষণ দিতে অক্ষম, তার দায়িত্ব রাষ্ট্র নিবে। যেক্ষেত্রে রাষ্ট্রের শাসক মুসলিম না, সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে এই দায়িত্ব পালনের বাধ্য করা যায় না। এই ক্ষেত্রে সাধারণভাবে এই দায়িত্ব উক্ত রাষ্ট্রের মুসলিম কমিউনিটির উপর বর্তায়।
GET IN TOUCH

