পুরাতন ফ্ল্যাট কেনার সময় যে সকল আইন বিষয় বিবেচনা করতে হবে।
মালিকানা এবং টাইটেল ডিড যাচাই করা।
জমির দলিল তথা স্বত্বের বা টাইটেল ডিড বিশুদ্ধ কিনা সেটা খতিয়ে দেখতে হবে। জমির স্বত্বের দলিল বা টাইটেল ডিট যাচাই করে জমির মালিকানা সম্পর্কে জানতে হবে। স্থানীয় ভূমি অফিসে গিয়ে জমির মালিকানা ও দখল সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। এই ক্ষেত্রে জমির খতিয়ানসমূহ (সিএস বা আরএস) যাচাই-বাছাই করে দেখতে হবে সর্বশেষ খতিয়ানে জমির মালিকের নাম আছে কিনা। উত্তরাধিকার সূত্রে জমির বা ফ্ল্যাটের মালিক হলে সেক্ষেত্রে বাটোয়ার চুক্তিপত্র বা আদালতের আদেশক্রমে বন্টননামা আছে কিনা সেটা দেখতে হবে বা বন্টনের কোন মোকদ্দমা আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে হবে বা উক্ত জমি বিষয়ে অন্যকোন মামলা আছে কিনা সেটা দেখতে হবে বা ।
ফ্ল্যাটটি সরকারের খাসজমির অন্তর্ভুক্ত কিনা বা জমিটি অর্পিত সম্পত্তি কিনা বা পরিত্যাক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত কিনা বা জমিটি অধিগ্রহণ হয়েছে কিনা বা অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন কিনা বা কোর্ট অব ওয়ার্ডসের জমি কিনা সেটা যাচাই করতে হবে।
ফ্ল্যাটটি আইনি বিরোধ মুক্ত কিনা সেটা নিশ্চিত হতে সম্পত্তির আইনি ইতিহাস পর্যালোচনা করা উচিত। ভূমি রেজিস্ট্রি অফিস থেকে সম্পত্তি সম্পর্কে অনুসন্ধান করে বা স্থানীয় আদালত হতে তথ্য নিয়ে উক্ত বিষয় নির্ধারণ করা যায়। ভূমি উন্নয়ন করা পরিশোধ করা আছে কিনা বা উক্ত কর অপরিশোধ থাকার কারণে কোন সার্টিফিকেট মামলা আছে কিনা, সেটা খুঁজে বের করতে হবে।
জমির মালিক পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে কাউকে নিয়োগ করেছে কিনা সেটা দেখতে হবে। বা বিক্রেতা যদি পাওয়ার অফ অ্যাটর্নির মাধ্যমে ক্ষমতা পেয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে তার বৈধতা যাচাই করতে হবে।
বিল্ডিং পারমিট এবং অনুমোদন।
বিল্ডিটি করার অনুমতি এবং বিল্ডিং-এর নকশা রাজউক কর্তৃক অনুমোদিত কিনা সেটা যাচাই করতে হবে। রাজউক কর্তৃক অনুমোদনবিহীন বিল্ডিং রাজউক ভেঙ্গে দিতে পারে। সুতরাং, এটা যাচাই করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যে অ্যাপার্টমেন্ট কিনছেন, সেটার আয়তন নকশা অনুসারে ঠিক আছে কিনা সেটাও দেখে নিতে হবে।
ডেভেলপার কোম্পানি যাচাই করা।
যদি আপনি রিয়েল এস্টেট কোম্পানির নিকট হতে ক্রয় করে থাকেন, তাহলে দেখতে হবে উক্ত কোম্পানিটি রিহ্যাবের সদস্য কিনা। ডেভেলপার কোম্পানি যে মালিকের নিকট হতে জমি নিয়ে ফ্ল্যাট নির্মাণ করছে, সেই মালিকের সাথে ডেভেটপার কোম্পানির চুক্তি যাচাই করতে হবে।
অনাপত্তি সার্টিফিকেট (এনওসি)
ফ্ল্যাট সংক্রান্ত বিষয়ে কোন বকেয়া বা আইনি বিরোধ নেই সেই মর্মে অনাপত্তি সার্টিফিকেট (Certificate) নিতে হবে। যেমন, ফ্ল্যাটটি কোন ব্যাংকে ঋণযুক্ত না বা কোন বিল বকেয়া নেই সেই মর্মে ওয়াসা, ডেসকো বা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কর্তৃপক্ষের নিকট হতে অনাপত্তি সার্টিফিকেট (এনওসি) নিতে হবে। কোন ইউটিলিটি চার্জ বকেয়া থাকাবস্থায় যদি ফ্ল্যাট ক্রয় করা হয়, তাহলে উক্ত ইউটিলিটি চার্জ আপনাকে পরিশোধ করতে হবে।
বিক্রয় চুক্তি এবং কবলা দলিল যাচাই করা:
ফ্ল্যাট ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে অনেক সময় বায়না দলিল করা হয় বা সম্পূর্ণ বিক্রয় অর্থ পরিশোধ করে সাবকবলা দলিল করে ফ্ল্যাট ক্রয়ের সাবকবলা দলিলটি রেজিস্ট্রেশন করে নেওয়া হয়। এই সকল দলিলে শর্তাবলি ফ্ল্যাটে আপনার মালিকানা ও দখলকে প্রভাবিত করতে পারে। সেহেতু উক্ত দলিলের শর্তাবলি যাচাই-বাছাই করা আবশ্যিক। যেমন, কিস্তিতে ফ্ল্যাট ক্রয় করার ক্ষেত্রে কিস্তির সংখ্যা দলিলে সুস্পষ্ট করে লেখা থাকতে হবে। ফ্ল্যাটটি কোন সময়ে হস্তান্তর করা হবে সেটাও উল্লেখ থাকতে হবে। উক্ত সময়ে হস্তান্তর না করলে বা ক্রেতা হিসাব ফ্ল্যাটটি ক্রয় করা সম্ভব না হলে কিভাবে উক্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করা হবে সেটাও উক্ত চুক্তিতে উল্লেখ থাকতে হবে। ফ্ল্যাটটি আগে অন্য কারো নিকট বিক্রয় করা হয়েছে কিনা সেটাও যাচাই করতে হবে।
পুরতান ফ্ল্যাট ক্রয়ের ক্ষেত্রে যে সকল ফি এবং ট্যাক্স লাগে।
স্ট্যাম্প ডিউটি;
নিবন্ধন ফি;
ট্রান্সফার ট্যাক্স;
মূল্য সংযোজন কর;
আইন সংক্রান্ত পারিশ্রমিক;
সম্পদ-কর।
আইনজীবীর সাথে পরামর্শ:
কোন প্রকার আইনী জটিলতা ব্যতীত ফ্ল্যাট ক্রয়-বিক্রয় করতে আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করা একটি আবশ্যিক বিষয়। একজন এস্টেট আইনজীবী বা সম্পত্তি বিষয়ক আইনজীবীর পরামর্শ গ্রহণ করা যেতে পারে।

